প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ লেগেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার জ্বালানি বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জেরে ভবিষ্যতে দেশে তেলের তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে—এমন গুজব ও আতঙ্কে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংগ্রহের হিড়িক পড়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত থেকে শুরু হওয়া এই উপচে পড়া ভিড় শনিবার (৭ মার্চ, ২০২৬) আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, মতিঝিল ও বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে যানবাহন ও মোটরসাইকেলের কিলোমিটারব্যাপী দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
শনিবার সকালে ও বিকালে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। শাহবাগ ও পরিবাগ এলাকার পাম্পগুলোতে কয়েকশ মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির সারি গিয়ে ঠেকেছে সায়েন্সল্যাব মোড় পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ বা ‘সরবরাহ সীমিত’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাসাবো ও খিলগাঁও এলাকায় সাধারণ মানুষকে বোতল ও কনটেইনার নিয়ে ভিড় করতে দেখা গেছে, যা নিয়ে পাম্প কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডাও লেগেই আছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সংকট ও তার রাজনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত গভীর। ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের ব্যবহার সীমিত থাকলেও শিল্পায়নের শুরুতে তেলের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়েও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এবং ১৯৭৩ সালের বৈশ্বিক তেল সংকটের (Oil Crisis) সময় বাংলাদেশ প্রথম বড় ধরণের জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ে। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ও তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলেছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ চলছে, তার মধ্যে ২০২৬ সালের এই ‘তেল আতঙ্ক’ সরকারের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত গত ৭৫ বছরে বারবার দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হলেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের ‘মজুতকরণের প্রবৃত্তি’ বা আতঙ্ক তৈরি হয়, যা বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে।
শাহবাগ-পরিবাগ এলাকার মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের ম্যানেজার আহমেদ রূশদ জানান, "মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ফুল ট্যাংক করছে, কেউ কেউ অতিরিক্ত কনটেইনারেও নিতে চাচ্ছে।" পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্পগুলোতে জ্বালানি বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে:
মোটরসাইকেল: সর্বোচ্চ ২ লিটার।
প্রাইভেটকার: সর্বোচ্চ ১০ লিটার।
এসইউভি/জিপ/মাইক্রোবাস: সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ লিটার।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং আগামী ৬ মাসের জন্য সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। যুদ্ধের প্রভাবে এখনই সংকট হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিপিসি জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল সংগ্রহের অনুরোধ জানিয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের এই সংকট মূলত মনস্তাত্ত্বিক। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় তাৎক্ষণিক সংকটের আশঙ্কা কম। তবে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না রাখলে এই কৃত্রিম সংকট নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় প্রেস রিলিজ।
২. যুগান্তর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন সরজমিন প্রতিবেদন (৭ মার্চ ২০২৬)।
৩. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাবের ইতিহাস (১৯৫০-২০২৪)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |